ব্রান্ডিলেনে ব্র্যান্ডিং

বিবিএ পড়ার সময় হাতেগোনা কিছু শিক্ষকের মুখে প্রায়ই একটা কথা শুনতে পেতাম। তারা আমাদের বলতেন চাকরির চেয়ে ব্যবসা করার কথা; নিজে কিছু করার কথা। একদম নতুন কিছু। চাকরি মানে অন্যের স্বপ্নে নিজের চালান। অতএব ব্যবসা করা ভালো। এতে নিজের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাওয়া যায়।

এ ছাড়া আরেকটা কারণ উল্লেখ করে ব্যবসার কথা বলতেন; এদেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। এই বেকারত্ব ঘোচাতে প্রচুর উদ্যোক্তা প্রয়োজন। সবাই চাকরি করলে এ সমস্যা সহসা কাটার নয়। পড়াশোনা শেষ করার পর ২০১৭ সালে এসে দেখা গেল, আশপাশে প্রচুর ব্যবসায়ী আছেন, যারা নিজেরা কিছু করতে চাইছেন, বয়সে বেশ তরুণ ও উদ্যমী। তাদের ভেতর নতুন কিছু করার নেশা। হালের অনলাইন শপ থেকে শুরু করে বুটিক হাউস পর্যন্ত যাদের সীমানা বিস্তৃত। কিন্তু হতাশার কথা হলো, এদের ভেতর অনেকেই সঠিক রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে কেউ কেউ হতাশ হয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন, চাকরিতে ঢুকে পড়ছেন। আবার কিছু বড় প্রতিষ্ঠান আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে অভ্যস্ত না হতে পেরে দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো মাঝারি প্রতিষ্ঠান বড় হতে গিয়েও হয়ে উঠতে পারছে না। এসব হোঁচট খাওয়ার কারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে ও নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারা। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ব্রান্ডিলেন’ এ ধরনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে এসেছে। ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত কার্যক্রম, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্রিয়েটিভ ও মার্কেট ব্র্যান্ডিং-এর ‘বিজনেস টু বিজনেস’ সার্ভিসগুলোয় তারা সিদ্ধহস্ত। ব্রান্ডিলেন ইতিমধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে গুগলের সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।
নতুন নতুন স্টার্টআপ ছাড়াও বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান ব্রান্ডিলেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যেমন :কুমিল্লা ভিক্টরিয়ানস, অরিয়ন গ্রুপ, কুমারিকা, তানিন গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ইত্যাদি।
ব্রান্ডিলেনের মূল উদ্যোক্তা একজন তরুণী। লিজা এ হোসেন নামে পরিচিত এ উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপদের মার্কেটিংয়ের সব সার্ভিস খুব কম খরচে পৌঁছে দেওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন অনলাইনে অনেকেই ই-কমার্স, বুটিক হাউস, হোম মেড ফুড, ট্রাভেলিং, বিউটি সেলুন, ট্রেনিং সেন্টারসহ নানা ধরনের ব্যবসা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। কিন্তু একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্রেতার কাছে নিজের পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া। কারণ ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার পরিধি বাড়ানো। পণ্য ও সেবা ভোক্তার কাছে পৌঁছালেই সেল্‌স বাড়বে। তবে সমস্যা হলো, নতুন উদ্যোক্তাদের মার্কেটিংয়ের বাজেট খুব সীমিত থাকে। এই সীমিত বাজেটে মানসম্মত ও আকাগ্ধিক্ষত কোনো অ্যাডভার্টাইজিং বা ব্র্যান্ডিং এজেন্সি থেকে সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে নিজেরাই নিজেদের মতো চালাতে থাকে এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেক সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখতে পায় না।’
২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ১০০ নতুন উদ্যোক্তার মার্কেটিং সেবার লক্ষ্যে ব্রান্ডিলেন কাজ করে যাচ্ছে। যারা অনলাইন শপ ব্যবসাসহ নানান ব্যবসার সঙ্গে ইতিমধ্যে যুক্ত আছেন বা চিন্তা-ভাবনা করছেন, তাদের জন্য ব্রান্ডিলেন হতে পারে নির্ভরতার জায়গা।

লেখা : রাজিব

 

দৈনিক সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *